সূরা ফালাক বাংলা উচ্চারণ সহ অর্থ

সূরা ফালাক বাংলা উচ্চারণ সহ অর্থঃ সূরা আল-ফালাক (নিশিভোর) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ পবিত্র কুরআন শরীফের ১১৩ নম্বর সূরা। এর আয়াত, অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ৫ এবং রূকু, তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ১। আজকের পোস্টে আমরা Surah falaq জানবো।

সূরা আল-ফালাক মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে। যদিও কোন কোন বর্ণনায় একে মক্কায় অবতীর্ণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়। এর পাঁচ আয়াতে শয়তানের অনিষ্ট হতে সুরক্ষার জন্য সংক্ষেপে মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রার্থণা করা হয়। সূরা ফালাক এবং এর পরবর্তী সূরা আন-নাসকে একত্রে মু'আওবিযাতাইন (আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়ার ২টি সূরা) নামে উল্লেখ করা হয়। অসুস্থ অবস্থায় বা ঘুমের আগে এই সূরাটি পড়া একটি ঐতিহ্যগত সুন্নত।
সূরা ফালাক বাংলা উচ্চারণ সহ অর্থ
সূরা ফালাক বাংলা উচ্চারণ সহ অর্থ

এখানে সূরা ফালাক আরবি, সুরা ফালাক বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, বাংলা উচ্চারণ, শানে নুযূল ও ফজিলত জানবো।


সূরা ফালাক

সূরার নাম সূরা আল ফালাক
নামের অর্থনিশিভোর
শ্রেণীমাদানী সূরা
আয়াত সংখ্যা
সূরার ক্রম১১৩
রুকুর সংখ্যা
পারার ক্রম৩০
শব্দ২৩
বর্ণ৭১

সূরা ফালাক ও সূরা নাস ভিন্ন সূরা হলেও এই দুটি সূরার পারস্পরিক সম্পর্ক এত গভীর ও উভয়ের বিষয়বস্তু পরস্পরের সাঙ্গে এত বেশি নিকট সম্পর্কিত যে এদেরকে একত্রে “মু’আওবিযাতাইন” (আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়ার ২ টি সূরা) নামে ডাকা হয়। আর এই সূরা দু’টি নাযিলও হয়েছে একই সাথে একই ঘটনার পরি-প্রেক্ষিতে।

সূরা ফালাকঃ আয়াত, আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

সূরা ফালাক বাংলা উচ্চারণ ছবি
সূরা ফালাক বাংলা উচ্চারণ ছবি

সূরা আল ফালাক, আয়াত নং - ১ঃ

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلْفَلَقِ

বাংলা উচ্চারণঃ কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিল ফালাক

বাংলা অর্থঃ বল, আমি শরণ লইতেছি ঊষার স্রষ্টার

সূরা আল ফালাক, আয়াত নং - ২ঃ

مِن شَرِّ مَا خَلَقَ

বাংলা উচ্চারণঃ মিন শাররি মা-খালাক।

বাংলা অর্থঃ তিনি যাহা সৃষ্টি করিয়াছেন তাহার অনিষ্ট হইতে,

সূরা আল ফালাক, আয়াত নং - ৩ঃ

وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ

বাংলা উচ্চারণঃ ওয়া মিন শাররি গা-ছিকিন ইযা-ওয়াকাব।

বাংলা অর্থঃ অনিষ্ট হইতে রাত্রির অন্ধকারের, যখন উহা গভীর হয়

সূরা আল ফালাক, আয়াত নং - ৪ঃ

وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّٰثَٰتِ فِى ٱلْعُقَدِ

বাংলা উচ্চারণঃ ওয়া মিন শাররিন নাফফা-ছা-তি ফিল ‘উকাদ।

বাংলা অর্থঃ এবং অনিষ্ট হইতে সমস্ত নারীদের, যাহারা গ্রন্থিতে ফুৎকার দেয়

সূরা আল ফালাক, আয়াত নং - ৫ঃ

وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ

বাংলা উচ্চারণঃ ওয়া মিন শাররি হা-ছিদিন ইযা-হাছাদ।

বাংলা অর্থঃ এবং অনিষ্ট হইতে হিংসুকের, যখন সে হিংসা করে।

শানে নুযূল

সূরা আল ফালাক ও পরবর্তী সূরা নাস একই সাথে একই ঘটনায় অবতীর্ণ হয়েছে। মুসনাদে আহমদে বর্ণিত আছে, জনৈক ইহু্দী রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)- এর উপর জাদু করেছিল। ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। জিবরাঈল আগমন করে সংবাদ দিলেন যে, জনৈক ইহু্দী জাদু করেছে এবং যে জিনিসে জাদু করা হয়েছে, তা অমুক কুপের মধ্যে আছে। রসুলুল্লাহ (সাঃ) লোক পাঠিয়ে সেই জিনিস কূপ হতে উদ্ধার করে আনলেন। তাতে কয়েকটি গিরু ছিল। তিনি এই সূরা দুটি পড়ে ফুক দেওয়ায় গিরুগুলো সাথে সাথে খুলে য়ায এবং সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে শয্যা ত্যাগ করেন।

হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত রয়েছে, রসুলুল্লাহ (সাঃ)- এর উপর জাদু করলে তার প্রভাবে তিনি মাঝে মাঝে দিশেহারা হয়ে পড়তেন এবং যে কাজটি করেননি, তাও করেছেন বলে অনুভব করতেন। একদিন তিনি হযরত আয়েশা (রাঃ) - কে বললেন: আমার রোগটা কি, আল্লাহ্ তা'আলা তা আমাকে বলে দিয়েছেন। (স্বপ্নে) ২ব্যক্তি আমার কাছে আসল এবং ১জন শিয়রের কাছে ও অন্যজন পায়ের কাছে বসে গেল। শিয়রের কাছে উপবিষ্ট ব্যক্তি অন্য জনকে বলল, তাঁর অসুখটা কি? অন্যজন বলল, ইনি জাদুগ্রস্ত। ১ম ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, কে জাদু করেছে? উত্তর হল, ইহুদীদের মিত্র মুনাফিক লবীদ ইবনে আ'সাম জাদু করেছে। আবার প্রশ্ন হল: কি বস্তুতে জাদু করেছে? উত্তর হল, ১টি চিরুনীতে। আবার প্রশ্ন হল, চিরুনীটি কোথায়? উত্তর হল, খেজুর ফলের আবরণীতে 'বির যরোয়ান' কূপে একটি পাথরের নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। অতঃপর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সে কূপে গেলেন এবং বললেন: স্বপ্নে আমাকে এই কূপই দেখানো হয়েছে। অতঃপর চিরুনীটি সেখান থেকে বের করে আনলেন।

মুসনাদে আহমদের রেওয়ায়েতে আছে, রসুলুল্লাহ (সাঃ) - এর এই অসুখ ৬ মাস স্থায়ী হয়েছিল।

সূরা ফালাক - এর ফজিলত

উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) একদিন আমাকে বললেন - আমার প্রতি এমন কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ করা হয়েছে যার অনুরুপ আর কখনো দেখা যায়নি। আর সেগুলো হলো মু’আববিয়াতায়ন বা সূরাহ আল ফালাক ও সূরাহ আন নাস এর আয়তসমূহ। (মুসলিম, হাঃ ১৭৭৭)

উকবাহ ইবনু আমির আল-জুহানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নবী বলছেন: মহান আল্লাহ আমার উপর এমন কতগুলো আয়াত অবতীর্ণ করেছেন যার কোন তুলনা হয় না। “কুল আউযু বিরব্বিন নাস..... শেষ পর্যন্ত” এবং “কুল আউযু বিরব্বিল ফালাক.... শেষ পর্যন্ত”। (তিরমিযী, হা” ২৯০২)

আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখনই নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হতেন তখনই তিনি 'সূরায়ে মু'আব্বিযাত' পড়ে নিজের উপর ফুঁক দিতেন। যখন তাঁর রোগ কঠিন হয়ে গেল, তখন বারাকাত অর্জনের জন্য আমি এই সূরাহ পাঠ করে তাঁর হাত দিয়ে শরীর মাসহ (মাসেহ) করিয়ে দিতাম। (বুখারি, হাঃ ৫০১৬)

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) প্রতি রাতে যখন ঘুমাতে যেতেন, তখন নিজের উভয় হাত এক সঙ্গে মিলাতেন। তারপর উভয় হাতে ফুঁক দিতেন এবং সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস পড়তেন। তারপর দেহের যতটুকু অংশ সম্ভব হাত বুলিয়ে নিতেন। তিনি মাথা, মুখমণ্ডল ও শরীরের সামনের অংশ থেকে শুরু করতেন। তিনি এরূপ তিনবার করতেন। (বুখারি, হাঃ ৫০১৭)

আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিন এবং মানুষের কু-দৃষ্টি হতে আশ্রয় চাইতেন। তারপর সূরা ফালাক ও সূরা নাস নাযিল হলে তিনি এ সূরা দুটি গ্রহণ করেন এবং বাকীগুলো পরিত্যাগ করেন। (তিরমিজী, হাঃ ২০৫৮)

হাদিস

আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসায়ীর এক দীর্ঘ রেওয়ায়েতে রসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি সকাল-বিকাল সূরা এখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ করে তা তাকে বালা-মিসীবত হতে বাঁচিয়ে রাখার জন্যে যথেষ্ট হয়। - (ইবনে-কাসীর)

সহীহ মুসলিমে ওকবা ইবনে আমের (রাঃ) - এর বর্ণিত হাদীসে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেনঃ তোমরা লক্ষ্য করেছ কি, অদ্য রাত্রিতে আল্লাহ তাআলা আমার প্রতি এমন আয়াত নাযিল করেছেন, যার সমতুল্য আয়াত দেখা যায় না। অর্থাক্বুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক এবং ক্বুল আউযু বিরাব্বিল নাস আয়াতসমূহ। অন্য এক রেওয়ায়েতে আছে, তওরাত, ইঞ্জীল, যাবুর এবং কোরআনেও অনুরূপ অন্য কোন সূরা নেই।

একটি সফরে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ওকবা ইবনে আমেন (রাঃ) - কে সূরা ফালাক এবং সূরা নাস পাঠ করালেন, অত:পর মাগরিবের নামাযে এ সূরাদ্বয়ই তেলাওয়াত করে বললেনঃ এই সূরাদ্বয় নিদ্রা যাওয়ার সময় এবং নিদ্রা শেষে বিছানা হতে উঠার সময়ও পাঠ করো। অন্য হাদীসে তিনি প্রত্যেক নামাযের পর সূরাদ্বয় পাঠ করার আদেশ করেছেন। - (আবু দাউদ,

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হাবীব (রাঃ) বর্ণনা করেন, ১ রাত্রিতে ভীষণ অন্ধকার ও বৃষ্টি ছিল। আমরা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) - কে খুঁজতে বের হলাম। যাখন তাঁকে পেলাম, তখন প্রথমেই তিনি বললেন: বল। আমি আরয করলাম, কি বলব? তিনি বললেন, সূরা এখলাস ও কূল আউযু সূরাদ্বয়। সকাল-সন্ধ্যায় এগুলো ৩ বার পাঠ করলে তুমি প্রত্যেক কষ্ট হতে নিরাপদ থাকবে। - (মাযহারী)

আরও পড়ুন - 
ট্যাগঃ সূরা ফালাক বাংলা উচ্চারণ সহ অর্থ, সূরা ফালাক বাংলা উচ্চারণ, surah falaq bangla, সূরা ফালাক শিক্ষা, সূরা ফালাক আরবি, সূরা ফালাক অর্থ।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url